জুলাইয়ে যুক্তরাষ্ট্রের মূল্যস্ফীতি কমে ৩.৪ শতাংশে

যুক্তরাষ্ট্রে টানা দ্বিতীয় মাসের মতো মূল্যস্ফীতি কমেছে। মার্কিন শ্রম পরিসংখ্যান ব্যুরোর (বিএলএস) নতুন প্রতিবেদন অনুযায়ী, জুলাইয়ে দেশটির ভোক্তা মূল্যসূচক (সিপিআই) বা মূল্যস্ফীতি কমে দাঁড়িয়েছে ৩ দশমিক ৪ শতাংশে।

গ্যাসোলিন, জ্বালানি তেল ও মুদি দোকানের পণ্যের দাম কিছুটা নিয়ন্ত্রণে আসায় মূল্যস্ফীতির এ গতি ধীর হয়েছে। খবর সিএনএন।

প্রতিবেদনে দেখা যায়, মাসিক হিসাবে জুনের তুলনায় জুলাইয়ে জিনিসপত্রের দাম বেড়েছে দশমিক ১ শতাংশ। অর্থনৈতিক বিশ্লেষকরা আগে থেকেই এমন আভাস দিয়েছিলেন। ঠিক দুই মাস আগে যুক্তরাষ্ট্রে মূল্যস্ফীতি তিন বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছেছিল। সে তুলনায় জুলাইয়ের পরিসংখ্যান আমেরিকানদের খানিকটা স্বস্তি দিয়েছে।

এ স্বস্তি সাময়িক হতে পারে বলে সতর্ক করেছেন অর্থনীতিবিদরা। তাদের মতে, গত পাঁচ বছর লাগাতার উচ্চ মূল্যস্ফীতির প্রভাবে সাধারণ মানুষের ওপর যে আর্থিক চাপ তৈরি হয়েছে, তা এখনই কাটার কোনো সম্ভাবনা নেই। ফলে মূল্যস্ফীতি সামান্য কমলেও সাধারণ পরিবারের টানাপড়েনের সংসার চালাতে তা খুব একটা সাহায্য করছে না।

গবেষণা প্রতিষ্ঠান এফডব্লিউডি বন্ডসের প্রধান অর্থনীতিবিদ ক্রিস্টোফার রুপকি বলেন, ‘আমেরিকানদের দৈনন্দিন জীবনে মূল্যস্ফীতির হুমকি এখনো পুরোপুরি কাটেনি। তবে দাম বাড়ার চাপ আগের মতো তীব্র পর্যায়েও নেই।’

অর্থনীতিবিদরা বলছেন, প্রতি মাসের অর্থনৈতিক তথ্য বেশ ওঠানামা করে। সম্প্রতি ইরান যুদ্ধের কারণে বৈশ্বিক জ্বালানি ও গ্যাসের বাজার চরম অস্থিরতার মধ্য দিয়ে গেছে। যদিও সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোয় ইরান নিয়ে শান্তি আলোচনার কিছু ইতিবাচক অগ্রগতির খবরে জ্বালানি ও মূল পণ্যের দাম কিছুটা কমেছে। কিন্তু এ আলোচনা এখনো অনিশ্চিত। এছাড়া বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেল ও সারের চড়া দাম আগামী মাসগুলোয় মার্কিন অর্থনীতিতে পণ্যের উৎপাদন খরচ আরো বাড়িয়ে দিতে পারে।

অন্যদিকে মূল্যস্ফীতি কিছুটা কমলেও জীবনযাত্রার ব্যয় নিয়ে মার্কিন নাগরিকদের চিন্তা কমেনি। দেশটির সাম্প্রতিক কর্মসংস্থানসংক্রান্ত প্রতিবেদন অনুযায়ী, জুলাইয়ে আমেরিকানদের গড় মজুরি বা আয় বেড়েছে ৩ দশমিক ২ শতাংশ। অর্থাৎ জিনিসপত্রের দাম যে হারে বাড়ছে, মানুষের আয় সে হারে বাড়ছে না।

আরও